কোন অর্থনৈতিক বিষয়গুলো শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলে?

বিষয়গুলোর তালিকা ছোট, দশ মিনিটেই শিখে ফেলতে পারবেন। সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কোম্পানির আয়। এই বিষয়ে প্রতিটি লেখা আপনাকে এই তালিকাটা দেয়, তারপর সেখানেই থেমে যায়।

কাজের অংশটা হলো, তালিকাটা যা বাদ দেয়। মার্কেট সংখ্যাটা দেখে নড়ে না। নড়ে সংখ্যাটা আর আগে থেকে যা প্রত্যাশিত ছিল, এই দুয়ের ফারাক দেখে। এটা একবার বুঝে গেলে, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নামে যা বিক্রি হয় তার বেশিরভাগকেই আর এজ (সুবিধা) বলে মনে হবে না।

মূল বিষয়গুলো, আর সেগুলো সাধারণত দাম কোন দিকে ঠেলে

এগুলো প্রবণতা, অলঙ্ঘনীয় সূত্র নয়। প্রতিটিই বহুবার উল্টো ফল দিয়েছে, আর কেন দিয়েছে তা পরের অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিষয়শেয়ারের দামে সাধারণ প্রভাবকেন
সুদের হার বাড়েনিম্নমুখী চাপধার নেওয়ার খরচ বাড়ে, ভবিষ্যতের আয়ের আজকের মূল্য কমে যায়, আর বিকল্প হিসেবে বন্ড বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে
মূল্যস্ফীতি অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়েনিম্নমুখী চাপএতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাড়ে, আর প্রকৃত আয় ক্ষয়ে যায়
কর্মসংস্থানের শক্তিশালী ডেটামিশ্রকোম্পানির বিক্রির জন্য ভালো, কিন্তু এতে সুদের হার কমার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জিডিপি বৃদ্ধিঊর্ধ্বমুখী চাপবেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মানে সাধারণত কোম্পানির বেশি মুনাফা
কোম্পানির আয় প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়ওই কোম্পানির শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখী চাপএই তালিকার সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্ক, অথচ এটাও নিয়মিত খাটে না
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি বদলের ইঙ্গিত দেয়প্রায়ই তালিকার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তিএটা বাকি সব মূল্যায়নের নিচে থাকা ধারণাটাই বদলে দেয়

খেয়াল করুন, এর কতগুলো ঘুরেফিরে সুদের হারে এসে ঠেকে। শেয়ারের ক্ষেত্রে সুদের হার কোন পথে যাবে, সেটাই সাধারণত মূল নিয়ামক, কারণ ভবিষ্যতের প্রতিটি আয়ের আজকের মূল্য কত, তা এটাই ঠিক করে।

যে অংশটা সবকিছু বদলে দেয়

মানুষ যেটা খেয়াল করে না, সেটা এই। কোনো সংখ্যা প্রকাশ হওয়ার আগেই মার্কেট সেটা কত হবে বলে আশা করেছিল, তা দামে ধরে ফেলেছে। ডেটা প্রকাশের আগে আপনি যে দাম দেখেন, তার মধ্যে পূর্বাভাসটা আগে থেকেই আছে।

তাই দামের নড়াচড়া আসে সারপ্রাইজ (অপ্রত্যাশিত ফল) থেকে, সংখ্যাটা কত তা থেকে নয়।

প্রত্যাশাআসল সংখ্যাসারপ্রাইজসাধারণ প্রতিক্রিয়া
150,000 চাকরি200,000প্রত্যাশার চেয়ে স্পষ্টভাবে ভালোদাম বাড়ে
200,000 চাকরি200,000নেইসামান্য নড়াচড়া
250,000 চাকরি200,000প্রত্যাশার চেয়ে কমদাম কমে

তিনটি সারিতেই আসল সংখ্যাটা একই। এ কারণেই দেখবেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ডেটা এল আর মার্কেট পড়ে গেল, তারপর এমন সব বিশ্লেষণ পড়বেন যেন সূক্ষ্ম কিছু একটা ঘটেছে। সূক্ষ্ম কিছুই ঘটেনি। সংখ্যাটা ভালো ছিল, প্রত্যাশা ছিল আরও ভালো।

উল্টোটাও ঘটে, আর সেটা দেখতে আরও বিভ্রান্তিকর। যে মার্কেট আরও খারাপের জন্য তৈরি ছিল, খারাপ খবরেও সেটা উঠে যেতে পারে।

অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার কেন কোনো এজ নয়

এটা আগের কথা থেকে সরাসরি আসে। নড়াচড়া যদি সারপ্রাইজের ওপর নির্ভর করে, তাহলে কোনো ডেটা প্রকাশ থেকে লাভ করতে হলে প্রকাশের আগেই সংখ্যাটা সম্পর্কে এমন কিছু জানতে হবে, যা সবার পূর্বাভাসে নেই।

  • আপনি বাকি সবার সঙ্গে একই সেকেন্ডে একই সংখ্যা পড়ছেন।
  • প্রতিষ্ঠানগুলোর মেশিন এক্সচেঞ্জের ঠিক পাশে বসানো থাকে, যেগুলো মাইক্রোসেকেন্ডে প্রতিক্রিয়া দেখায়। আপনি শিরোনামটা পড়ে শেষ করার আগেই প্রথম নড়াচড়াটা হয়ে গেছে।
  • ডেটা প্রকাশের আশপাশে স্প্রেড চওড়া হয় আর স্লিপেজ বাড়ে, তাই অনুমান ঠিক হলেও অর্ডার খারাপ দামে ফিল হতে পারে। এ নিয়ে আরও আছে ট্রেডিংয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পাঠে।

এর মানে এই নয় যে অর্থনৈতিক ডেটার কোনো গুরুত্ব নেই। মানে হলো, রিটেইল অ্যাকাউন্টের জন্য এই ডেটা ট্রেডিং সিগন্যাল নয়, আর যিনি ডেটা প্রকাশের মুহূর্তে ট্রেড করার স্ট্র্যাটেজি বিক্রি করছেন, তিনি আসলে এমন এক দৌড় বিক্রি করছেন যেখানে আপনি নামছেন পায়ে হেঁটে।

যে পজিশনটা মূল্যস্ফীতির একটা সংখ্যা কয়েক সেকেন্ডে কেড়ে নিল

আমার একটা পজিশন ছিল, যেটা নিয়ে আমি খুশি ছিলাম, তারপর মূল্যস্ফীতির ডেটা এল আর মার্কেট যেন পাগল হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড। দাম কোথায় যাচ্ছে সে বিষয়ে যা জানি বলে ভেবেছিলাম, তার কিছুই আর কাজে লাগল না, কারণ একটা সংখ্যা পূর্বাভাসের সঙ্গে মেলেনি।

তাই আমি সবচেয়ে স্বাভাবিক পথটা নিলাম, ডেটা প্রকাশের মুহূর্তগুলোতেই ট্রেড করলাম। তাতে ফল আরও খারাপ হলো। ডেটা প্রকাশের পর প্রথম নড়াচড়াটা মার্কেটের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ওটা হুড়োহুড়ি, আর দামের হঠাৎ লাফ আমাকে এতবার পজিশন থেকে ছিটকে দিয়েছে যে আমি ধারণাটা চিরদিনের মতো ছেড়ে দিয়েছি।

এখন আমি যা করি, তাতে কোনো চালাকি নেই। ক্যালেন্ডারে বড় কোনো ডেটা প্রকাশ থাকলে, সেই সময়ে আমি মার্কেটে থাকি না। প্রথম ঢেউটা চলে যেতে দিই, স্প্রেড আর নড়াচড়া থিতিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করি, তারপর আসলে যা বাকি থাকে তা দেখে সিদ্ধান্ত নিই।

আমার কাছে ক্যালেন্ডারের আসল কাজ এটাই। সুযোগের তালিকা নয়, বরং কখন অন্য কোথাও থাকতে হবে তার তালিকা।

ক্যালেন্ডার আসলে কীসের জন্য

এর সত্যিকারের একটা কাজ আছে, আর সেটা আত্মরক্ষার, ভবিষ্যদ্বাণীর নয়।

  • কখন ভোলাটিলিটি আসছে তা জানা। কোন ঘণ্টাগুলোতে নির্ধারিত ডেটা প্রকাশ আছে, তা আগে থেকেই দেখতে পারেন, আর সেগুলোকে বেশি ঝুঁকির সময় হিসেবে ধরতে পারেন।
  • ডেটা প্রকাশের সময় পজিশন না রাখার সিদ্ধান্ত। যেকোনো দিকে দামের হঠাৎ লাফে কোনো পজিশনের বড় ক্ষতি হতে পারলে, আগেই সেটা বন্ধ করে দেওয়া একটা সত্যিকারের স্ট্র্যাটেজি, ভীরুতা নয়।
  • পরে কোনো নড়াচড়ার ব্যাখ্যা। সপ্তাহটা সুদের হারের কারণে চলেছে, এটা জানা থাকলে পরিস্থিতি বুঝতে সুবিধা হয়, যদিও আগে থেকে সেটা আন্দাজ করতে এটা কাজে আসত না।
  • দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপট। আপনি যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ পজিশন ধরে রাখেন, তাহলে যিনি প্রতিদিন পজিশন বন্ধ করেন তাঁর তুলনায় সুদের হারের পরিবেশ আপনার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সেই ঘণ্টাগুলো কোনগুলো, আর এড়িয়ে চলার মতো অন্য সময়গুলো কখন, তা আলোচনা করা হয়েছে দিনের কোন সময়ে ট্রেড করা সবচেয়ে ভালো পাঠে।

কোন মার্কেটে কোনটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

একই ডেটা প্রকাশের ওজন সব জায়গায় সমান নয়।

আপনি যদি ট্রেড করেনযেসব বিষয় এটাকে সবচেয়ে বেশি নাড়ায়
আলাদা আলাদা শেয়ারপ্রথমে কোম্পানির আয়, তারপর সেক্টর, তারপর সুদের হার
শেয়ার সূচকসুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষা, প্রায় সবকিছুর ওপরে
কারেন্সিদুই দেশের সুদের হারের প্রত্যাশার মধ্যে পার্থক্য, আলাদাভাবে কোনো একটা নয়
কমোডিটিওই কমোডিটির চাহিদা ও জোগান, সঙ্গে ডলার, সঙ্গে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রত্যাশা
ক্রিপ্টোলিকুইডিটির অবস্থা আর ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ। এটা কারেন্সির চেয়ে বরং হাই-বিটা প্রযুক্তি অ্যাসেটের মতো আচরণ করে

কারেন্সির সারিটাই সবচেয়ে বেশি ভুলভাবে শেখানো হয়। সুদের হার বাড়লেই কোনো কারেন্সি নিজে থেকে শক্তিশালী হয় না। শক্তিশালী হয় এমন কোনো দেশের তুলনায়, যেখানে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা নেই, আর তাও শুধু তখনই, যদি হার বাড়াটা আগে থেকে প্রত্যাশিত না থাকে।

সাধারণ প্রশ্ন

কোন অর্থনৈতিক বিষয়গুলো শেয়ারের দামে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে?

পুরো মার্কেটের ক্ষেত্রে, সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা আর সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ইঙ্গিত দেয়। একটা নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্ষেত্রে, অ্যানালিস্টদের পূর্বাভাসের তুলনায় তার নিজের আয়। প্রচলিত তালিকার বাকি প্রায় সবকিছুই কাজ করে এই দুটোর কোনো একটাকে বদলে দিয়ে।

ভালো খবরে মার্কেট পড়ল কেন?

কারণ খবরটা দামে আগে থেকে যতটা ধরে নেওয়া হয়েছিল ততটা ভালো ছিল না, অথবা এতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমে গেছে, অথবা নড়াচড়াটা প্রত্যাশিতই ছিল আর যাঁরা সেটা আশা করেছিলেন তাঁরা লাভ তুলে নিয়েছেন। তিনটিই খুব সাধারণ ব্যাপার, আর কোনোটার জন্যই ষড়যন্ত্র লাগে না।

আমি কি খবরের সময় ট্রেড করব?

নতুন ট্রেডার হিসেবে, না। স্প্রেড চওড়া হয়, অর্ডার কোন দামে ফিল হবে তার ঠিক নেই, প্রথম নড়াচড়াটা আপনি কিছু করার আগেই হয়ে যায়, আর দিক নির্ভর করে এমন এক পূর্বাভাসের সংখ্যার ওপর, যেটা বিচার করার অবস্থায় আপনি নেই। ডেটা প্রকাশের সময় সরে থাকা একটা স্ট্র্যাটেজি, এবং বুদ্ধিমানের স্ট্র্যাটেজি।

ট্রেড করতে কি অর্থনীতির খোঁজখবর রাখতে হয়?

ক্যালেন্ডার কখন ব্যস্ত, সেটা জানার মতো খোঁজ রাখতে হয়, যাতে কোনো নির্ধারিত ঘটনা আপনাকে কখনো চমকে না দেয়। অর্থনীতি নিয়ে বড় কোনো সামগ্রিক ধারণা আপনার দরকার নেই, আর এমন ধারণা থাকাটা প্রায়ই এমন পজিশনের মায়ায় পড়ার কারণ হয়, যার সঙ্গে চার্ট আগেই একমত হয়নি।

সংক্ষেপে

সুদের হারের প্রত্যাশাই প্রধান, বাকি প্রায় সবকিছু কাজ করে এর মধ্য দিয়ে, আর মার্কেট নড়ে সংখ্যা আর পূর্বাভাসের ফারাক দেখে, সংখ্যাটা দেখে নয়।

ক্যালেন্ডার ব্যবহার করুন কখন সাবধান থাকতে হবে তা জানতে, কী ঘটবে তা জানতে নয়। প্রথমটা সম্ভব। দ্বিতীয়টাই আপনাকে বিক্রি করা হচ্ছে।